স্কাউটদের মধ্যেই সুপ্ত আছে দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী

স্কাউট-প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসাতেও স্কাউটিং চালু করতে হবে। বাছাইকৃত নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থীই যাতে স্কাউটিংয়ের প্রশিক্ষণ পায় সে বিষয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে স্কাউট জাম্বুরির ৩২তম সমাবেশের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউটদের মধ্যেই সুপ্ত আছে দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে থেকেই হবে দেশের রাজনৈতিক নেতা, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, কবি-সাহিত্যিক, প্রশাসক শিক্ষক, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, যারা দেশের সেবা করবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের স্কাউট সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের আত্মনির্ভরশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি চাই, আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থী এর আওতায় আসুক। এখন ২২ লাখ সদস্য আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ লাখ সদস্য হবে।

এসময় স্কাউটের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউট-ই নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আর তরুণদের মধ্যে আধুনিক সৃজনশীল গুণাবলী বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে। পরোপকারী হিসেবে সমাজ সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিমারি করোনায় তাদের আন্তরিকতা আমরা দেখতে পেয়েছি। এই স্কাউট আন্দোলন আরো ব্যাপকভাবে গড়ে উঠুক। এজন্য আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি।

এসময় শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই আমি তোমাদের মাঝে আসি, তখনই আমার মনে পড়ে আমার ছোট ভাই শেখ রাসেলকে, মাত্র ১০ বছরে যাকে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছে। তোমাদের মাঝেই আমি শেখ রাসেলকে খুঁজে পাই।

আমি চাই, আমাদের দেশের আজকের শিশু-কিশোরদের জীবন নিরাপদ হোক, সুন্দর হোক, অর্থবহ হোক। তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশের কর্ণধার হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই, আমাদের দেশটা আরো চমৎকারভাবে গড়ে উঠুক। যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ স্থান পাবে না। সাম্প্রদায়িকতা বা সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত থাকবে। আজকের শিশু যারা বড় হবে, তারা উদার মন নিয়ে বড় হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং গঠন করার কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্কাউটদের সর্বোচ্চ পদক শাপলাকাব অ্যাওয়ার্ড দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।

মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ৩২তম এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল ও একাদশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরি ২০২৩।

সারা দেশের ৯১৬টি স্কাউট ইউনিটের প্রায় ৮ সহস্রাধিক স্কাউট, কর্মকর্তা, আইএসটি রোভার স্বেচ্ছাসেবক, ইউনিট লিডার এবং বিভিন্ন দেশ হতে আগত স্কাউটারসহ ১০ হাজার ৯৯৬ জন এই জাম্বুরিতে অংশগ্রহণ করে।

১৯৭৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ফিলিপাইনে প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্কাউট জাম্বুরি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ বিশ্ব স্কাউট সংস্থার ১০৫তম সদস্য। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য সংখ্যা ২২ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি। সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ স্কাউটসের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।

দেশের খবর/প্রিন্স