পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপার ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল

পেরুকে-কোপা আমেরিকা-ফাইনালে-ব্রাজিল

খেলার খবর : লুকাস পাকুয়েতার একমাত্র গোলে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল।

পেরুর বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলাটা জমিয়েছিল সেভাবেই। দুর্দান্ত আক্রমণে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে নেইমারের অসাধারণ একটি পাস থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে পেরুর জালে বল জড়িয়ে দেন লুকাস পাকুয়েতা।

এই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় আর ব্রাজিলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নিয়ে যায়। যদিও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেরু ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেলেসাওদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি পেরু।

ঘরের মাঠে পেরুর বিপক্ষে শুরুটা দারুণ করেছিল নেইমাররা। ম্যাচের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের নিয়ন্ত্রণও দারুণভাবে নিয়েছিল সেলেসাওরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে যখন গোল পাচ্ছিল না ব্রাজিল, তখন এই লুকাস পাকুয়েতাই মাঠে নেমে গোল করে জেতালেন দলকে। গ্যাব্রিয়েল হেসুসের লাল কার্ড থাকার কারণে তিনি খেলতে পারেন নি সেমিফাইনালে। আবারও ব্রাজিলের উদ্ধারকর্তা সেই পাকুয়েতা।

৮ মিনিটের মাথায় ম্যাচে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। পেরুর গোটা রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সের ভেতর রিচার্লিসনের উদ্দেশে দারুণ এক থ্রু বল দেন লুকাস পাকুয়েতা।

রিচার্লিসন বল নিয়ন্ত্রণে এনে পেড্রোকে কাটিয়ে নেইমারের উদ্দেশে ব্যাকপাস দেন কিন্তু তাঁর পাস চলে যায় মাঠের বাইরে। এর মিনিট পাঁচেক পরে ক্যাসেমিরোর বুলেট গতির শট পেরু গোলরক্ষকের সোজা চলে যায়। কিন্তু বল ধরে রাখতে পারেননি এই গোলরক্ষক, ফিরতি বল এভারটনের কাছে গেলেও তিনি তা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি।

১৯তম মিনিটে এসে পেরু গোলরক্ষক যা দেখালেন তা যেন সাক্ষাৎ যাদু। মুহূর্তের ব্যবধানে তিনটি দুর্দান্ত সেভ দিয়ে পেরুকে ম্যাচে পিছিয়ে পড়তে দেননি। ক্যাসেমিরোর নেওয়া ফ্রি-কিক পেড্রোর বুকে লেগে হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।

এরপর পাকুয়েতা আর নেইমারের যুগলবন্দিতে দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক থেকে নেইমারের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন পাকুয়েতা আর বল পেয়ে নেইমার শট নেন কিন্তু তা ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন এই পেরুর গোলরক্ষক।

এখানেই থামেননি তিনি। নেইমারের শট ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল পান রিচার্লিসন, তিনিও জোরালো শট নিলে সেটিও রুখে দেন এই গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা ব্রাজিলের গোলের দেখা পাওয়াটা কেবল সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অপেক্ষার ফল যে সুমিষ্ট হয় তা বোঝা গেল ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে এসে। মাঠের বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে পেরুর ডি-বক্সের দিকে ঢুকে পড়ে দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে ডান দিকে ক্রস করেন নেইমার।

ডি-বক্সের ভেতর জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন পাকুয়েতা। আর প্রথমার্ধে ওই ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে ঠিক ‘ব্রাজিলের’র মত মনে হয় নি। একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে পেরু। বরং পুরো দ্বিতীয়র্ধে পেরুর আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিলো ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। গোলরক্ষক এডারসন দৃঢ়তা দেখাতে না পারলে হয়তো বিদায়ই নিতে হতো ব্রাজিলকে।

শেষ পর্যন্ত লুকাস পাকুয়েতার করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

ডিখ/মুন্না