কলার খোসায় কলার চাইতেও উপকারী,আছে বহুগুন!

কলার খোসায়,উপকারী,কলা

দেশের খবর লাইফস্টাইল : কলার খোসায় বহুগুন। মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত শরীরচর্চা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষকেই সঠিক ডায়েট মানতে দেখা যায় না।

ওজন কমানো থেকে শক্তি বাড়ানো সবকিছুতেই ডায়েচ চার্টে সবার ওপরে থাকে ফল। ফলের গুরুত্ব যে কতটা বেশি সেটা আমরা কমবেশি সকলেই জানি ও মেনে থাকি।

তবে সম্প্রতি ডায়েটিশিয়ানরা দাবি করেছেন, ফলের থেকে ফলের খোসা বেশি উপকারী। এই যেমন ধরুন কলা। এই ফলটি গোটা খাওয়ার থেকে ফলের খোসা বেশি উপকারী, এমনটাই এখন দাবি করছেন তারা।

কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি-৬, বি-১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম মানুষের হজমজনিত সমস্যা সমাধান করে থাকে। ঠিক তেমনই কলার খোসায় থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কলা যেমন আমরা এমনি খেতে অভ্যস্ত, তেমনি কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে, কলার পুডিং, মাফিন, কেক এমনকি, কলার বড়াও বেশ উপাদেয়। তবে কলা যেভাবেই খাই না কেন খোসাটি কিন্তু যায় সেই ডাস্টবিনে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই কলার খোসাতেই থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই শুধু বাড়িয়ে তুলতে পারে তা নয়, বরং যে কোনো সংক্রমণ রোধেও অত্যন্ত উপকারী তা।

কলার খোসার মধ্যে থাকা লুটিন নামক পদার্থটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও বিশেষভাবে উপকারী উপাদান। কলার খোসায় থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে সবুজ খোসার থেকে বেশি উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে হলুদ খোসা।

জাপানের এক গবেষণায় দেখা গেছে সবুজ খোসার থেকে বেশি উপকারী হলুদ খোসা। এই খোসা রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ ঠিক রেখে ক্যানসার মোকাবিলা করতে পারে। সবুজ খোসার ক্ষেত্রে ১০ মিনিট খোসা সেদ্ধ করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে সবুজ খোসার মধ্যে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপ্টোফ্যানের কারণে রাতে ভালো ঘুম হয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে সবুজ খোসার মধ্যে থাকা সিরোটোনিন অবসাদের মোকাবিলা করতেও সক্ষম। আবার ডোপামিনের সাহায্যে কিডনিতে রক্ত চলাচল ভালো হয়।

কীভাবে খাবেন কলার খোসা? অনেক রকমভাবে কলার খোসা খাওয়া যায়। এশিয়া ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলিতে কলার শাঁস ও খোসা প্রায় এক সঙ্গেই খাওয়া হয়। এ ছাড়াও বানানা পিল টি বা বানানা পিল স্মুদি উইথ আইসক্রিমও স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। কেউ কাঁচা খোসা খেতে পছন্দ করেন, কেউ বা সেদ্ধ করে খেতে পছন্দ করেন।

সহজে পুষ্টি পেতেই হোক আর ঝটপট পেট ভরানোর কাজেই হোক, আজও আমাদের অন্যতম ভরসা কলা। চিরপরিচিত এই ফলটি পাওয়া যায় পর্যাপ্ত, অন্য ফলের চেয়ে দামেও সস্তা আর একই সঙ্গে পুষ্টির ভাঁড়ার! যে কোনও ডায়েট প্ল্যানে তাই একটা বাঁধাধরা জায়গাই রয়েছে কলার। এ পর্যন্ত সবাই জানি।

যেটা অনেকেই খোঁজ রাখেন না, সেটা হল কলার মতো কলার খোসাও কিন্তু দুর্দান্ত উপকারী! বিশেষ করে রূপচর্চার নানা কাজে তো কলার খোসা বলতে গেলে অতুলনীয়! কলার খোসায় প্রচুর প্রয়োজনীয় মিনারেল আর পর্যাপ্ত অ্যান্টি অক্সিডান্ট রয়েছে।

তাই সস্তায় রূপচর্চা করতে হলে এবার থেকে আর কলা খেয়ে খোসাটা ফেলে দেবেন না যেন! কী কী কাজে কলার খোসা লাগে জানতে হলে পড়তে থাকুন!

দাঁতের যত্নে কলার খোসা : বিশ্রী হলদে ছোপ ধরেছে দাঁতে? স্কেলিংয়ের পিছনে গুচ্ছের টাকা খরচ না করা থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে কলার খোসা। খোসার ভিতরদিকের সাদা অংশটা দাঁতে প্রতিদিন খানিকক্ষণ ঘষুন। এক সপ্তাহ পর মুক্তোর মতো দাঁত দেখে নিজেই চমকে যাবেন!

আঁচিল কমাতেও কলার খোসা : যাঁদের ঘন ঘন আঁচিল হয়, তাঁরাও কলার খোসা থেকে উপকার পাবেন। আঁচিলের উপর কলার খোসার সাদা অংশটা ঘষুন। তারপর একটুকরো খোসা আঁচিলের উপর চাপা দিয়ে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে মুড়ে দিন। কিছুদিন করলেই চিরতরে বিদায় নেবে আঁচিল।

ব্রণর সমস্যায় কলার খোসা : ব্রণ লাল হয়ে ফুলে আছে, সঙ্গে ব্যথাও রয়েছে? ব্রণর উপর কলার খোসা ঘষুন। এক সপ্তাহের মধ্যে হাতেনাতে ফল পাবেন!

বলিরেখার উপদ্রবে কলার খোসা : কলা ত্বককে আর্দ্র আর পুষ্টিগুণে ভরপুর রাখে। ফলে নিয়মিত কলা যাঁরা খান, তাঁদের বলিরেখা বা সূক্ষ্ম রেখার সমস্যা এমনিতেই কম হয়।

বাড়তি উপকার পেতে একটা কলার খোসা শিলনোড়া বা মিক্সারে বেটে নিন। তাতে একটা ডিমের কুসুম মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্টটা মুখে মেখে পাঁচ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। ত্বক অসম্ভব নরম আর মসৃণ হয়ে যাবে।

মশার কামড় : হাত-পায়ে মশার কামড়ের ফলে চুলকে চুলকে লাল হয়ে ফুলে উঠেছে? আপনাকে জ্বালা আর চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে কলার খোসা! কামড়ানোর জায়গাটায় কলার খোসা ঘষুন, দেখতে দেখতে জ্বালা আর চুলকানি দুটোই কমে যাবে, ত্বকও শীতল হবে।

ডিখ/সৃষ্টি